Friday, February 7, 2014

" চাকরি পেতে নয়, দিতে চান স্বর্ণা "

একটি চাকরি যখন সোনার হরিণ হয়ে গেছে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শিক্ষার্থী নিজেই নিয়েছেন চাকরি দেওয়ার উদ্যোগ। তা1র নাম মাকসুদা রহমান স্বর্ণা।  এই উদ্যোগে মূল উপজীব্য ইন্টারনেটকেন্দ্রিক মার্কেটিং সিস্টেম ই-কমার্স। বাংলাদেশে এ ধারণা নতুন বললে ভুল হবে। এরই মধ্যে অনেক ই-কমার্স চালু হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই নাম লিখিয়েছে সফলতার খাতায়।
সংক্ষেপে ই-কমার্স হলো এমন একটি ওয়েবসাইট যেখান থেকে মানুষ পণ্য কিনতে পারে। ইন্টারনেটের সজলভ্যতা, বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহার হওয়ার কারণে এখন এই ধরনের ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। আর এ প্রযুক্তিকেই কাজে লাগাচ্ছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাকসুদা রহমান স্বর্ণা।
3স্বর্ণা জানিয়েছেন, তিনি মূলত চাকরি পেতে নন, বরং চাকরি দিতে চান। কারো অধীনে থেকে নয়, নিজেই কাজ করার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চান তিনি। ব্যবসায় প্রশাসন নিয়ে পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী তাই নিজেই ব্যবসা শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে কেন্দ্র করে তার ব্যবসা গড়ে উঠেছে।
ফেসবুকে পেইজ (https://www.facebook.com/bddokan0088) এবং গ্রুপ (https://www.facebook.com/groups/bddokan/) এর মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেছেন স্বর্ণা। ১ নভেম্বর থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে এই জগতে প্রবেশ তার, বিডি দোকান নাম নিয়ে।
স্বর্ণা জানালেন, ই-কমার্স সাইট (http://bddokan.com/) বানানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনার পর এখন ডিজাইনার সেটি নকশা করছেন। এরই মধ্যে তিনি তার ক্রেতাদের সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোবাইল ফোনে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
2ফেসবুকেই কেন এভাবে ‘ক্যারিয়ার’ শুরু করলেন- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বর্তমানে আমাদের তরুণ সমাজ ফেসবুক নির্ভর। পরীক্ষার রুটিন থেকে শুরু করে সব কিছুতে তারা ফেসবুকে ঢুঁ দেয়। আর আমার ব্যবসার সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে তাদের ধরা হয়েছে। এ কারণেই ফেসবুক থেকেই যাত্রা শুরু করলাম।”
অর্থায়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, তার আরেক উদ্যোক্তা বন্ধুর সহায়তায় অর্থায়ন হচ্ছে। এজন্য তাকে মালিকানার অংশ দেয়া হচ্ছে।
অনলাইনে ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো সরকারি নীতিমালা না থাকায় ব্যাংক লোন কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্বর্ণা। এখন তারা অনলাইনে ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের অর্ডার নিচ্ছেন এবং অর্থ প্রদানের জন্য বিকাশ ও ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংককে বেছে নিয়েছেন।
এছাড়াও ঢাকায় নিজেদের কর্মী এবং ঢাকার বাইরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তিন কর্মদিবসের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করে থাকে বিডি দোকান। এখন এ দোকানে রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক টাকার পণ্য।

" সফল উদ্যোক্তা “অভ্র” "

994599_609177129140436_1077243778_n
জীবনে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে সফলতা পেয়েছেন এনলাইটেন এ। অনেক কষ্ট অনেক পরিশ্রম স্বারথ ত্যাগ করে এই ব্যবসার সূচনা। চট্টগ্রামের ছেলে  অভ্র।উচ্চ শিক্ষা নিতে পোল্যান্ড গেলেও ৩ মাস এর বেশি মন টিকে নি তারপর ফিরে আসেন বাংলাদেশে।পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের জন্য বন্ধুদের সঙ্গে মিলে সে উদ্যোগে সফলতা না আসায় আবার চাকুরি নেন এক্সপো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এ। সেইখানে সি.আর.ও পদে চাকুরি করার সাথে সাথে চিন্তা করতে থাকেন নিজেই কিছু করার, কিন্তু নিজের মধ্যে সব সময় হতাশা কাজ করত পুজি নেই বলে।তবে তার মন পড়েছিল নিজে থেকে কিছু করার। অন্তরের ডাকে সাড়া দিয়ে আবার ঝুঁকি নিলেন নতুন কিছু করার। তারপর শুরু করলেন এনলাইটেন।
শুরুটা যেভাবে
প্রথমে শুরু করেন অল্প পুজি নিয়ে, মাত্র ৯০০০ টাকা দিয়ে একটা লাইট কোম্পানি থেকে ডিলারশিপ গ্রহণ করেন। তারপর সিখান থেকেই পথ চলা শুরু। এর প্রায় ৬ মাস এর মধ্যে পুঁজি বাড়িয়ে নিজেই লাইট ইমপোর্ট করেন। তিনিই বাংলাদেশ এ প্রথম তৈরি করেন মশারোধী এনার্জি লাইট। তারপর শুরু হই কঠিন পথচলা। নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত করার সাথে সাথে শুরু হল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কে বড় করার বৃহৎ পরিকল্পনা।  শুরুতে হাজারো প্রতিবন্ধকতা থাকলেও হতাশ হননি।
তাঁর একটাই কথা “স্বপ্ন কে জয় করুন বাস্তবতা দিয়ে” এবং তিনি তা জয় করতে পেরেছেন।
প্রতিবন্ধকতা 
রাজেশ জানান,সকল অনুপ্রেরণা র মুল পরিবার কিন্তু আমার সকল প্রতিবন্ধকতা এসেছে পরিবার থেকে। পথে নামলে যেহেতু পথ চিনা যায়- তাই মনোকষ্ট থাকলেও এ যুদ্ধ জয়ে পরিবারের বড় এ সন্তান এগিয়েছেন মনোবলকে সঙ্গী করে। সঙ্গে ছিল বিনিয়োগজনিত সমস্যা। নানা মুনি নানা মত দিয়েছেন কিন্তু দুঃখের বিষয় সব গুলই পিছ পা হওয়ার। কিন্তু নিজেকে বিশ্বাস করে সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম।
বর্তমান পরিকল্পনা
বর্তামান এ তিনি একটি আইটি প্রতিষ্ঠান এবং একটি ছোট বার ই-কমার্স এর সাথে যুক্ত। যেইখানে চট্টগ্রাম এবং ঢাকা মিলে মোট ৩০ জন পড়ুয়া যুবক কাজ করছে এবং তিনি জানালেন সামনে কিছু দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ এর সব চাইতে বার ই-কমার্স চালু করবেন। যা হবে শুধু মাত্র ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে।
নতুনদের প্রতিঃ
  • নিজেকে বিশ্বাস করুন, শুনুন মন কি বলছে। কারণ এর থেকে বড় অনুপ্রেরণা আর নেই। কার উপর নির্ভরশীল না থেকে নিজে উদ্যোগ নিন। একবার হেরে গেলে পিছু পা হবেন না, আবার চেষ্টা করুন হবেই। মনে রাখবেন পথে হাঁটতে গেলে পরতে হই, আর এইটাকে আপারগতা নই, শিক্ষা হিসাবে নিন। তাহলে দেখবেন সাফল্য আসবেই। নিজেই চেষ্টা করে হয়ে উঠুন সফল উদ্যোক্তা। আর মনের মধ্যে রাখুন একটাই কথা আমরা  আমরা কর্মসংস্থান দখল করব না,সৃষ্টি করব। আর সব সময় আমার কাছ থেকে সকল সাহায্যের পথ খোলা। ০১৬২০৮৬৯০১৮।

" শেখ আকিজউদ্দিন : ফেরিওয়ালা থেকে শিল্পপতি "

রাজিব আহমেদ,নিউজ এজেন্সি টোয়েন্টিফোর,ঢাকা- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প পরিবার আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজউদ্দিন জীবন-সংগ্রাম শুরু করেছিলেন কলকাতার রাস্তায় ফেরিওয়ালা হিসেবে। তাঁর মুখে শোনা কাহিনীটা নিউজ এজেন্সির পাঠকদের জন্য এইরকম :
আমার আদি বাড়ি খুলনা জেলার ফুলতলা থানার মধ্যডাঙ্গা গ্রামে। বাবা ক্ষুদে ব্যবসায়ী শেখ মফিজউদ্দিন, মা মতিনা বেগম। বাবার ব্যবসা বলতে ধান, চাল আর নারকেল বেচা-কেনা। চারপাশের মানুষের তীব্র দারিদ্র্য আর অস্বচ্ছলতা বাল্যকালেই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, জীবন সংগ্রাম কত কঠিন! 
১৯৪২ সাল বাবার কাছ থেকে মাত্র ১৬ টাকা নিয়ে বাড়ি ছাড়ি। গন্তব্য কাছাকাছি মহানগর কলকাতা। সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিলাম শিয়ালদহ রেলস্টেশনে। সারাদিন ঘুরিফিরি, কাজের সন্ধান করি আর রাত হলে স্টেশনের এক কোণে কাগজ বিছিয়ে শুয়ে পড়ি। সারাদিনের খাবার ছয় পয়সার ছাতুÑ এর বেশি খরচ করার সুযোগও ছিল না। কারণ টাকা দ্রুত ফুরিয়ে আসছিল, কিন্তু উপযুক্ত কাজ খুঁজে পাচ্ছিলাম না।
এর মধ্যে স্থানীয় জাকারিয়া হোটেলের মালিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। সহৃদয় এই ভদ্রলোক আমাকে তাঁর হোটেলের এক পাশে আশ্রয় দেন। আমিও চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসার চিন্তা করতে থাকি। কিন্তু পুঁজির অভাবে তাও সম্ভব হচ্ছিল না।
অনেক ভেবে-চিন্তে কমলা লেবু বিক্রির ব্যবসা শুরু করলাম। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ। পাইকারি দরে কমলা লেবু কিনে হাওড়া ব্রিজের আশেপাশে ফেরি করে খুচরা বিক্রি করি। এজন্য পুলিশকে দুই টাকা ঘুষও দিতে হতো!
এর মধ্যে আরেকটা সুবিধাজনক ব্যবসার সন্ধান পেয়ে যাইÑ ভ্রাম্যমান মুদির দোকান। সমস্যা হলো, অন্য দোকানদাররা ছোট ছোট মজার হিন্দি ছড়া কেটে পণ্য বিক্রি করতো। আর আমি একদমই হিন্দি জানতাম না। বাধ্য হয়ে ব্যবসার প্রয়োজনে হিন্দি শিখতে শুরু করলাম। অল্পদিনে বেশ রপ্তও হয়ে গেল।
মুদির ব্যবসা যখন বেশ জমজমাট, তখন ঘটলো আরেক বিপদ। হঠাৎ একদিন পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে গেল। বিচারে তিন দিনের জেল ও জরিমানা হলো। সেটা ছিল আমার জীবন-সংগ্রামের উপর বড় রকমের আঘাত। জেল থেকে বের হয়ে এসে রাগে অভিমানে কোনোকিছু বিবেচনা না করে পুরো দোকানটি বিক্রি করে দিলাম!










আবার সেই অনিশ্চিত যাত্রা; তবে খুব বেশি দিন নয়। পরিচয় হলো এক পেশোয়ারী ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তাঁর হাত ধরে পাড়ি জমালাম পেশোয়ারে। দোকান বিক্রির টাকাগুলো হাতে ছিল; তাই দিয়ে আবার ফলের ব্যবসা শুরু করলাম। ব্যবসার স্বার্থে পশতু ভাষা রপ্ত করে নিলাম। এভাবেই কেটে গেল আরো দুই বছর।
তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্রান্তিকাল। মোটামুটি ১০ হাজার টাকা পুঁজি হলে বাবা-মায়ের কাছে থাকবো বলে বাড়ি ফিরে এলাম। কিন্তু সুখ বেশি দিন কপালে সইলো না। অল্প দিনের ব্যবধানে বাবা-মা দু’জনেই মারা গেলেন। তখন আমি সবে ১৯ বছরের তরুণ। 
ঠিক করলাম, এবারে যা-ই করি, নিজ এলাকায় করবো। কিন্তু কী করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। সেই সময়ের বিখ্যাত বিধু বিড়ির মালিক বিধুভূষণ-এর ছেলে আমার বন্ধু। সেই সুবাদে বিড়ি তৈরি করে বিক্রি করার ধারণাটি মাথায় আসে। 
১৯৫২ সালে আমি প্রথম বিড়ির ব্যবসা শুরু করি। আরো দুইজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বিড়ি তৈরির কাজে নেমে পড়ি। অল্পদিনের মধ্যে লাভের দেখা পাই। একইসঙ্গে বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশনের পাশে একটি মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করি। 
১৯৫৪-৫৫ সালের দিকে আমার দোকানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। হঠাৎ এক রাতে আগুন লেগে পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে আমি আবার পথের ফকির হয়ে গেলাম! কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও মনোবল হারাইনি। আমার দৃঢ়বিশ্বাস ছিল, আবার শূন্য থেকে শুরু করবোÑ উপরওয়ালা নিশ্চয় সদয় হবেন।
পরিচিতজনদের সহযোগিতায় আমি আবার নতুন দোকান প্রতিষ্ঠা করলাম। সততা, নিষ্ঠা আর একাগ্রতার ফলে আমার ঘুরে দাঁড়াতেও সময় লাগেনি। কিছুদিনের মধ্যেই আমি লাখখানেক টাকার মালিক হয়ে গেলাম। 

এবারে শুরু করলাম ধান, পাট, চাল, গুড় আর ডালের ব্যবসা। সবক্ষেত্রেই আমার মূলধন ছিল বিশ্বস্ততা। সবাই নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতো আমাকে ।
ষাট-এর দশকে আমি যশোরের সীমান্তবর্তী নাভারন পুরাতন বাজারে চলে আসি।

এ সময় স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোজাহার বিশ্বাস আমাকে বেশ সহযোগিতা করেন। এখানে এসে নতুন করে বিড়ির ব্যবসা শুরু করি; গড়ে ওঠে আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরি। আস্তে আস্তে অন্যান্য ব্যবসাতেও মনোনিবেশ করি। 
একে একে প্রতিষ্ঠিত হয় আকিজ তামাক ফ্যাক্টরি, আকিজ নেভিগেশন, আকিজ জুট মিল, আকিজ ম্যাচ ফ্যাক্টরি, আকিজ সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ইত্যাদি। পাশাপাশি কিছু সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছি। বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী আমার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
ছোটবেলায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অসহায় অবস্থা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই সুযোগ পেলেই আমার এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। সত্যি বলতে কি, আমার তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। অক্লান্ত পরিশ্রম, কঠোর অধ্যবসায় আর সততাই আমাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

" শূন্য থেকে কোটিপতি "

শুরু করেছিলেন শূন্য হাতে। কাজ করতেন অন্যের কারখানায়। বগুড়ার আজিজার রহমান ওরফে মিলটন আজ সাতটি কারখানার মালিক। সেখানে কাজ করছেন ২০ প্রকৌশলী-কর্মকর্তাসহ ৭০০ শ্রমিক। সাশ্রয়ী দামের কৃষি যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে আজিজার আজ ‘কৃষকবন্ধু’।আজিজার সম্পর্কে বগুড়ার ব্যবসায়ীদের অনেকে বলেন, তাঁকে দেখে আমরা কাজের অনুপ্রেরণা পাই।আজিজার সহায়-সম্পত্তি, জমি-গাড়ি করেছেন। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে সেই আগের মানুষটিই আছেন। শহরের নামী এলাকায় জমি থাকা সত্ত্বেও তিন ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন কারখানার ভেতরেই।আজিজার বলেন, ‘নিজের পরিশ্রম আর চেষ্টায় এত দূর এসেছি, ভাবতে অবাক লাগে। আবার কৃষি ও কৃষকের জন্য কিছু করতে পারার আনন্দে বুকটা ভরে ওঠে।’
সেই দিনগুলো: জন্ম শহরের দক্ষিণ কাটনারপাড়ার ছোট্ট বাড়িতে। ভাইবোন মিলিয়ে সাকল্যে সাতজন। বড় আজিজার। ভালো পরিচ্ছদ তো দূরের কথা, ছেলেমেয়েদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতেই হিমশিম খেতেন বাবা ফেরাজউদ্দিন। ১৯৭৫ সালে ফেরাজউদ্দিন প্রজেক্টর মেরামতের কাজ শেখেন। উত্তরের বিভিন্ন শহর ঘুরে এ যন্ত্র মেরামত করতেন। এতে কিছু আয় হতো। এরপর ‘বগুড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে’ শিখলেন অগভীর নলকূপ মেরামতের কাজ।আজিজার তখন শিশু। স্কুলে পড়ে। বন্ধুরা পরে আসত রঙিন জামা। আজিজারের এক কাপড়েই কাটত সারা বছর। অন্যরা শহরের ‘ঠাকুরের বিরিয়ানি’ খেতে যেত, মাত্র ২৫ পয়সা জোটাতে না পেরে যাওয়া হতো না তাঁর। এভাবে এসএসসি পাস করলেন, শহরের করনেশন ইন্সটিটিউশন থেকে। সময়টা ১৯৮৫ সাল। টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারলেন না কলেজে। বাবার সঙ্গে কারখানায় শ্রমিক বনে গেলেন আজিজার। অচল যন্ত্রকে সচল করার কাজ করতে হতো তাঁকে। ছোট্ট কচি হাতে ঘা-ফোসকা পড়ে যেত। সারা মাস পর মজুরি মোটে ৭০০ টাকা। দুই টাকা বেশি রোজগারের আশায় করতেন ওভারটাইম। একটু বিশ্রাম নিলেই সুপারভাইজারের ধমক।

সংগ্রামের শুরু: এভাবেই কেটে যায় কৈশোর। একসময় যন্ত্রাংশ মেরামতে হাত পাকল। একদিন নিজেই একটা লেদ যন্ত্র বসানোর কথা ভাবলেন।
বাড়িতে এসে নিজের ইচ্ছার কথা জানালেন মাকে। মা শেষ সম্বল গয়না বেচে দিলেন কিছু টাকা। ছোট বোন দিলেন তাঁর জমানো কিছু। এভাবে ১৯৮৯ সালে ৩০ হাজার টাকায় লেদ যন্ত্র কিনে বসালেন বগুড়া শহরের রেলওয়ে মার্কেটে। সারা দিন অন্যের কারখানায় কাজ করে ঘরে ফিরে মধ্যরাত অবধি কাজ করতেন নিজের কারখানায়।
হাড়কাঁপানো শীতে একখানা গরম কাপড় কেনার জন্য ৫০০ টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মরার লেদটা বিকল হয় ঠিক তখনই। আজিজারের আর শীতের কথা মনে থাকে না। ওই টাকায় যন্ত্রাংশ কিনে ঠিক করেন লেদটি।
পরের বছর চাকরি ছেড়ে দিয়ে মন দিলেন নিজের কারখানায়। মেরামতের কাজ বাদ দিয়ে ভাবলেন নিজেই কিছু তৈরি করার কথা। তখন থেকে শুরু হলো তাঁর উৎপাদনমুখী শিল্পের যাত্রা। ১৯৯০ সালে বিসিক থেকে ক্ষুদ্র প্রকৌশল ঋণ হিসেবে একটা আধুনিক লেদ ও ড্রিল যন্ত্র পেলেন, সঙ্গে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। ছয় মাসের মধ্যে সেই টাকার বেশির ভাগই সংসারের ধারদেনা মেটাতে ব্যয় হয়ে গেল।
অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে লেদে সেচ যন্ত্রের পাম্প তৈরিতে লেগে পড়লেন। নাম দিলেন ‘মিলটন পাম্প’। দিনে একটা করে পাম্প বানাতে পারতেন। খরচ পড়ত তিন হাজার টাকা। বেচতেন দুই হাজার টাকা লাভে। প্রথম থেকেই ফাটাফাটি বাজার পেল তাঁর পাম্প।
পাঁচ বছরের মাথায় দিনে ২০০ পাম্প তৈরি হতে থাকে। বাজারে পাম্পের চাহিদার সঙ্গে বাড়তে থাকে ব্যবসা। নিজের কারখানার পাশাপাশি স্থানীয় আরও ২০টি লেদ কারখানার সঙ্গে চুক্তি করে পাম্প উৎপাদন করেন আজিজার। ১৯৯৭ সালে রেলওয়ে মার্কেটের পাশাপাশি বিসিকে প্লট নিয়ে পাম্প তৈরির আধুনিক কারখানা দেন।
ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প: ২০০৩ সালে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়ার রুগ্ণ ও দেউলিয়া হয়ে যাওয়া শিল্প ‘ফিরোজ মেটাল ওয়ার্কস’ কিনে তা চালু করেন। এই কারখানায় দিনে বর্তমানে ৪০০ টিউবওয়েল তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় দুই হাজার রকমের কৃষি ও হালকা প্রকৌশল পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এখানে। আজিজারের চারটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে পানি তোলার সেচ পাম্প, হস্তচালিত নলকূপ, রিকশা-ভ্যান, কলের লাঙলের যন্ত্রাংশ, খোয়া-সিমেন্ট-বালু মেশানোর যন্ত্রাংশ। যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে সিমেন্ট ও সাবান কারখানার; পাটকল, তেলকল ও চিকন সেমাই কলের। তৈরি হচ্ছে সব ধরনের মোটর ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশও।
সরেজমিন: গত বুধবার বগুড়া-রংপুর মাটিডালি সড়কের পাশে শহরের বিসিক শিল্পনগরে আজিজারের কারখানায় গিয়ে দেখা যায় এক বিরাট কর্মযজ্ঞ। কারখানার এক পাশে পুরোনো লোহা-লক্করের স্তুপ। কারিগর বাদশা মিয়া জানান, এসব গলিয়ে নানা জিনিস বানানো হবে।
পাশের কারখানাটিতে তৈরি হচ্ছে নলকূপ ও সেচ পাম্প। শ্রমিকদের কেউ লেদ মেশিনে পিস্টন বানাচ্ছেন, কেউ বানানো পাম্প শেষবারের মতো মসৃণ করছেন। নারীশ্রমিকেরা পাম্প ও টিউবওয়েল রং করছেন। রংমিস্ত্রি যুবতী রানী বলেন, এখানে প্রায় ১০০ নারীশ্রমিক কাজ করছেন। সারা দিন রঙের কাজ করে একেকজন গড়ে দুই থেকে তিন শ টাকা করে রোজগার করছেন।
দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে: দেশে বাজার পাওয়ার পর ২০০৮ সাল থেকে ভারতে পাম্প রপ্তানি শুরু করেন আজিজার। তিনি বলেন, ‘রপ্তানি পণ্যের ওপর উচ্চ কর আরোপের কারণে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারিনি। ফলে রপ্তানি শুরুর ছয় মাস পর বন্ধ করে দিতে হয়।’
আজিজার তাঁর কারখানার উৎপাদিত পণ্য দেখাতে এবং কাজ শিখতে নানা দেশ ভ্রমণ করেছেন। ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, থাইল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় তাঁর পণ্য প্রদর্শন এবং বাণিজ্য সেমিনারে অংশ নিয়েছেন।
সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সচিব ও উপদেষ্টা আজিজারের কারখানা পরিদর্শন করেছেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে গিয়েছেন ভারতের টাটা, জাপানের জাইকা ও নেপালের সচিব পর্যায়ের প্রতিনিধি। ২০১২ সালে সারা দেশ থেকে তিনজন শিল্পোদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এই তিনজনের একজন মনোনীত হন আজিজার।
যন্ত্রের সঙ্গে বসবাস: শিল্পকারখানা ছাড়াও আজিজারের ৭৭ শতক জায়গার ওপর রয়েছে দুটি গুদাম, শহরের অভিজাত আবাসিক এলাকায় তাঁর রয়েছে এক একর জায়গা। কারখানার পণ্য পরিবহনের জন্য রয়েছে সাতটি ট্রাক, রয়েছে দুটি বাস ও দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি।
আজিজার বলেন, ‘কারখানার যন্ত্র আমার কাছে সন্তানের মতো। সারা রাত কারখানায় কাটিয়ে দিই। সকালে কিছুক্ষণ ঘুমাই। এসব সন্তান ছেড়ে আলিশান বাড়িতে ঘুম ধরে না, তাই যন্ত্রের সঙ্গে বসবাস করছি।’
একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে অর্জনটা কী, জানতে চাইলে আজিজার বলেন, ‘কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলে সবাই ভিড় ঠেলে একনজর আমাকে দেখতে আসেন। আর বলেন, “ওই যে মিলটন পাম্পের মালিক।” তখন নিজেকে ধন্য মনে হয়।’
বগুড়া বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম, সততা, নিষ্ঠা আর সাধনার মাধ্যমে সাফল্যকে জয় করার বড় উদাহরণ আজিজার রহমান। তিনি অন্য উদ্যোক্তাদের জন্য দৃষ্টান্ত।’

" ই-কমার্সে স্বপ্ন সাজাচ্ছে আপনজোন ডটকম "

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর প্রতিবেদক : দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সাফল্যের কথা তুলে আনতে চায় টেক শহর ডটকম। ই-বাণিজ্য, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান, টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান তথা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক যে কোনো উদ্যোগ ও উদ্যোক্তাদের নিয়মিত সবার সামনে তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ। সফলদের সাফল্য গাঁথার পেছনের কাহিনী ছড়িয়ে দিতে টেকশহর ডটকমের এ আয়োজনে এবার থাকছে আপনজোন ডটকমের বেড়ে ওঠার গল্প।
সবেমাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। ছুটির এ সময়টাতে সমবয়সীরা যখন এটা ওটা নিয়ে ব্যস্ত তখন তিনি বিভোর ইন্টারনেট জগতে। বিশাল এ ভুবনের নিয়মিত বাসিন্দা হয়ে পড়েন তিনি। দেশ বিদেশের নানা সাইট ঘাঁটাঘাঁটির সময় অ্যামাজন, ই-বেসহ আরও কয়েকটি সাইটের কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়েন। মাথায় ঢুকে যায় ই-কমার্সের পোকা।
শুরুর গল্পটা এমনই ছিল বলে জানালেন আপনজোন ডটকমের (http:/ /aponzone.com) উদ্যোক্তা ও প্রধান নির্বাহী আসিফ আহনাফ। ১৯ বছর বয়সী এ তরুণ বলেন, এসএসসি পরীক্ষার পর ছুটির সময়টাতে বিশ্বজুড়ে অনলাইনে কেনাবেচার জমজমাট ভুবনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময়টাতেই দেশে এ রকম কিছু করার পরিকল্পনা প্রায় ঠিক করে ফেলি। ওই সময়টাতে খুবই অবাক হয়েছিলাম অনলাইনের মাধ্যমে সব কিছু কেনাবেচা সম্ভব দেখে। এ ধরনের ব্যবসা সম্পর্কে জানা শোনা বলতে ইন্টারনেটের তথ্যই ভরসা। পুঁজিও নেই। এরপরও কিছু একটা করার নেশা থেকেই যেন পথে নেমে পড়ি।
দেশের ই-বাণিজ্যে আপনজোন ডটকম ক্রমে পরিচিতি পাচ্ছে জানিয়ে আসিফ বলেন, অথচ শুরুটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। গল্পটা অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না। তিনি বলেন, অনলাইনে বেচাকেনার স্বপ্ন দেখতে দেখতেই পরীক্ষার রেজাল্ট হয়ে গেল। ভর্তি হলাম ঢাকা কলেজে। কলেজের পড়াশোনার ফাঁকেই সেই ইচ্ছাটা আবার জাগতে শুরু করল। আমিও হাল না ছেড়ে তা বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে শুরু করলাম। হাতে পুঁজি না থাকায় এলিফ্যান্ট রোডের পরিচিত এক দোকান থেকে ওয়াইম্যাক্স মডেম ও কিছু কম্পিউটার সামগ্রী বাকিতে নিয়ে যাত্রাবাড়ি এলাকায় আমার ইংলিশ শিক্ষক মোহাম্মদ তারেকের বাসা থেকে বিক্রি শুরু করলাম।
এ প্রতিবেদককে মনোযাগী শ্রোতা পেয়ে পুরনো স্মৃতি তুরে আনতে শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু তরুণ আসিফ। তার স্বপ্ন যাত্রার কথা বলতে থাকেন। তিনি জানান, যাত্রাবাড়িতে ডোর টু ডোর সেবা দেওয়া শুরুর তিন মাসের মাথায় ২০ হাজার টাকা মুনাফাও করে ফেললাম। এরপর আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন নাহিদুর রব জিকো। ফ্রেঞ্জ এশিয়া নামে কম্পিউটার সামগ্রী বিক্রি ও কম্পিউটার ট্রেনিং সেবা দিতে একটি শোরুম খুললাম আমরা। তিন জনের বিনিয়োগ দাঁড়াল দুই লাখ টাকা। এরই মাঝে স্বয়ংসম্পূর্ণ ই-কমার্স সাইট দাঁড় করানোর অভিজ্ঞতা লাভে প্রতিষ্ঠিত ১০টি ক্লাসিফাইড ও ই-কমার্স সাইটগুলোতে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ শুরু করলাম। পাশাপাশি বাজার বিশ্লেষণের কাজও চালিয়ে যাই। কিভাবে যে দু’বছর কেটে গেল টেরই পেলাম না। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করলাম ২০১২ সালে। এবার লেগে গেলাম পরিপূর্ণ ই-কমার্স সাইট চালু করতে। আপনজোন ডটকমের যাত্রা শুরু এভাবেই।
Aponzone dotcom Cover Photo_Tech Shohor

টার্নিং পয়েন্ট কিউবি ল্যাপটপ ফেয়ার
সীমিত আকারে ২০১২  সালের শেষের দিকে শুরু হয় আপনজোনের ই-কমার্স কার্যক্রম। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার কাছে আত্মপ্রকাশ মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার একটি ল্যাপটপ মেলায়।  আসিফ বলেন, আমাদের আরও উদ্দমী হতে সাহায্য করেছে মেকার কমিউনিকেশন আয়োজিত কিউবি ল্যাপটপ ফেয়ার। প্রায় বিনামূল্যে ১২৮ বর্স্কফুটের বিশাল স্টলসহ মেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ এসেছিল মেকারের সৌজন্যে। এ মেলাতেই তিনশ’র বেশি গ্রাহক পেয়েছিল আপনজোন। এটি ছিল আমাদের ব্যবসায়ের মূল টার্নিং পয়েন্ট।
বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলা
একটি ই-কমার্স সাইট পরিচালনা করতে অনেক মূলধনের প্রয়োজন। এ নিয়ে আমাদেরও বিপাকে পড়তে হল। আপনজোন ডটকম পরিবারের প্রত্যয় ছিলো শূন্য থেকে বড় হওয়ার। একযোগে অনেক বিনিয়োগের সুযোগই ছিল না আমাদের। ফ্রেঞ্জ এশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। যা মেলার মুনাফা ও পরবর্তী এক মাসের মুনাফা দিয়েই পরিশোধ করা হয়। আপনজোনের মূলধন দাঁড়ায় ৬০ হাজার টাকা। এভাবেই শুরু হয় আস্তে আস্তে এগিয়ে চলা। আসিফ আহনাফ বলেন, এগিয়ে চলার পথে কখনও যেমন সাফল্য এসেছে, তেমনি হতাশাও ভর করেছে।  এসব নিয়েই চলছে আপনজোনের পথ চলা।
asif_Ziko_ Tech Shohor
ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় সেরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত
ওয়েবসাইটের মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আসিফ আহনাফ ও নাহিদুর রব জিকো ঘুরে বেড়িয়েছেন ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন নগরীতে। অংশগ্রহণ করেছেন বিভিন্ন মেলায়। চলতি বছরের জুলাইয়ে যখন নিজেদের উদ্যম ও উদ্ভাবনীর স্বীকৃতি হিসেবে পুরষ্কার পেয়ে নতুন করে উজ্জীবিত হলেন। প্রায়  ৬০টি প্রতিষ্ঠানকে পিছনে ফেলে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় আয়োজিত ঢাকা ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় সেরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয় আপনজোন ডটকম। আসিফ বলেন, এ প্রাপ্তি আমাদের আকাংখাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
বৃহত্তম অনলাইন শপিং সাইট করার পরিকল্পনা
আগামীতে দেশে ই-বাণিজ্যই হবে ব্যবসার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র এমনটিই মনে করেন আসিফ ও জিকো। তাই আপনজোনকে দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম অনলাইন শপিং সাইট করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তাইতো এ স্বপ্ন পূরণে জিকো মাস্টার্স শেষ করেও চাকুরি না খুঁজে এটিকেই বড় করার কাজে লেগে পড়েছেন। একজন ক্রেতা তার চাহিদার সম্ভাব্য সবকিছুই যাতে তাদের কাছ থেকে পান সে চেষ্টাই চালাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি এখন নজর দিচ্ছেন মানসম্মত পণ্য ও ক্রেতার মনোতুষ্টির দিকে।
আসিফ বলেন, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই। তিনি বলেন, ‍”একটি কথা বলতে চাই -স্বপ্ন সেটাকে বলে না যা আমরা ঘুমিয়ে দেখি, স্বপ্ন সেটাই যা আমরা জেগে থেকে দেখি।”
-টেক শহর

" ঘড়ি মেরামত করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছে প্রতিবন্ধী জুয়েল রানা "

অন্যের দয়াদাক্ষিণ্য নয়, দারিদ্র্য জয় করতে নিজের প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী জুয়েল রানা গড়ে তুলেছেন মেসার্স জুয়েল ওয়াচ। নিজের উপার্জন দিয়ে পরিবারের অভাব দূর করেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়াচালার প্রতিবন্ধী জুয়েল রানা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের রাখালিয়াচালা এলাকায় এক খ- জমি কিনে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন দিনমজুর আবদুল জলিল। ১৯৯৩ সালে জলিলের পরিবারে জন্মগ্রহণ করে জুয়েল। দুর্ভাগ্যবশত জন্ম থেকেই তার দুটি পায়ে সমস্যা দেখা দেয়। ওই এলাকার জামিয়া কাদেরিয়া মাহামুদিয়া মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে সে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে জুয়েল রানা সবার বড়। তাই বড় হলে পরিবারের সব দায়িত্ব পড়ে তার কাঁধে। অভাব-অনটন আর প্রতিবন্ধকতা হার মানাতে পারেনি প্রতিবন্ধী জুয়েলকে। মানুষের কাছে হাত না পেতে সংসার চালানোর জন্য সফিপুর বাজারে গড়ে তুলেছেন মেসার্স জুয়েল ওয়াচ। ঘড়ি বিক্রি করে সংসারের অভাব-অনটন অনেকটা দূর করেছে সে। এখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এখন জুয়েল।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিবন্ধী হওয়ায় জীবনে চলার পথে বাধাগ্রস্ত হলেও থেমে থাকেনি জুয়েল। কখনও কারও কাছে সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। বরং পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় সংসারের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছে সে। এ কারণে ২০০৩ সালে উপজেলার সফিপুর বাজারে মাহাবুব হাসানের ঘড়ি মেরামতের দোকানে বিনা বেতনে কাজ শেখে জুয়েল। সেখান থেকে অল্প সময়ে জুয়েল ঘড়ি মেরামতের ওপর দক্ষতা অর্জন করে। এরপর ২০০৬ সালে এক হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সফিপুর বাজারে ছোট টং দোকান নিয়ে জুয়েল ঘড়ি মেরামত ও বিক্রির কাজ শুরু করে। ঘড়ি মেরামত ও বিক্রি করে সব খরচ বাদে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৩০ টাকা আয় করে। ওই আয়ের টাকা থেকে সংসারের সব খরচ, ছোট দুটি ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচ বহন করছে জুয়েল। এছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে সরকার থেকে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা পায়। প্রতিবন্ধী হলেও জুয়েল একজন সাধারণ মানুষের মতোই পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জুয়েল এখন আর বোঝা নয়, পরিবারের একমাত্র অবলম্বন।  সেই সঙ্গে দেশের ও পরিবারের জন্য গৌরবের।

জুয়েল রানা জানান, স্বাভাবিক মানুষের মতো আমার দুটি পা না থাকলেও আল্লাহ আমাকে দুটি স্বাভাবিক হাত দিয়েছেন। এই হাত দুটোকেই আমি কাজে লাগাতে চেষ্টা করলাম। তাই নিজের মনোবল ও ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঘড়ি মেরামতের কাজ শিখি। আর এ কাজ শিখে এক হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ঘড়ি মেরামত ও পাশাপাশি ঘড়ি  বিক্রি করি। এখান থেকে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে আমার ছোট বোন ও ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ এবং সংসারের যাবতীয় খরচ চালিয়ে  যাচ্ছি। 



" সফল নারী উদ্যোক্তা অনিমা রায় "



অনিমা রায়। একজন সফল নারী উদ্যোক্তার নাম। ছোটবেলায় তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একজন সেরা ডিজাইনার হবেন। আজ তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। দেশের গ-ি পেরিয়ে বিদেশেও বিক্রি হচ্ছে তার তৈরি ডিজাইনের পোশাক। ২ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে পোশাক শিল্পের কাজ শুরু করলেও বর্তমানে প্রতি মাসে তার ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। আর ব্যবসার লাভের অংশ দিয়েই চলে এই খরচ। একই সঙ্গে সংসারের খরচ আর ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছেন।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার জবারপাড় গ্রামের মেয়ে অনিমা। নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় একই গ্রামের রঞ্জন পা-ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই স্বামীর সঙ্গে চলে আসতে হয় ঢাকার মিরপুরে। স্বামীর ইচ্ছায় মিরপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তী সময়ে উত্তরার দক্ষিণখানে স্থানান্তর হলে এক কলেজে ভর্তি হলেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা আর দেয়া হয়নি। এর মধ্যে অনিমা আর রঞ্জনের সংসারে আসে তাদের প্রথম সন্তান সৈকত পা-ে।  ফলে সংসার আর সন্তান নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনিমা। কিন্তু দিন দিন এই একগুঁয়েমি ব্যস্ততা তার আর ভালো লাগে না। পরে স্বামীর সঙ্গে বোঝাপড়া করে ছোটবেলার সেই স্বপ্ন পূরণের পথে যাত্রা করেন।

ব্যবসার শুরু যেভাবে : ১৯৯৮ সালে বাড্ডা বহুমুখী সমবায় সমিতির কাছ থেকে মাত্র ২ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি এ ব্যবসা শুরু করেন। অর্থাৎ ১৬ বছর ধরে তিনি এ ব্যবসাকে আঁকড়ে ধরে আছেন। তিনি বলেন, প্রথম অবস্থায় আমি আমার কিছু ডিজাইন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে দেখাই। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ কেউ আমার সঙ্গে দেখা করে। ফলে অল্প টাকা দিয়ে ব্যবসাটা শুরু করতে পেরেছিলাম। এরপর প্রথম দফায় ব্র্যাক থেকে ৫০ হাজার ও দ্বিতীয় দফায় ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসার পরিসর বৃদ্ধি করি। সেলাই মেশিন ও এমব্রয়ডারি মেশিন ক্রয় করি। আর কারখানার জন্য টুকিটাকি যা যা দরকার তা ক্রয় করে ব্যবসা পুরোদমে শুরু করি। আর এ ব্যবসার খরচ দিয়েই ব্র্যাকের ঋণ শোধ করি। এর পর পরিসর আরও বৃদ্ধি করার জন্য ২০০৩ সালে এসএমই ফাউন্ডেশনে যুক্ত হই। এরপর জনতা ব্যাংক থেকে প্রথম দফায় ৫ লাখ ও দ্বিতীয় দফায় মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে ৮ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করি। আর সে অর্থ দিয়ে চলছে বর্তমান ব্যবসা।

উৎপাদনের জন্য যেসব উপকরণ প্রয়োজন : অনিমা রায় জানান, কেউ স্বল্প পুঁজিতে পোশাক শিল্পের ব্যবসা শুরু করতে চাইলে প্রথম অবস্থায় একটি সেলাই মেশিন ও একটি এমব্রয়ডারি মেশিন প্রয়োজন। এ ছাড়া উৎপাদনের পরিমাণ অনুযায়ী কাপড়, রঙ, বুটিকসের প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয় করতে হবে। যদি কেউ প্রথমেই বড় পরিসরে কাজ করতে চান, তাহলে ন্যূনতম দেড় থেকে ২ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। আর এ কাজের জন্য ন্যূনতম ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক প্রয়োজন।

ব্যবসার জন্য স্থায়ী খরচ ও চলতি খরচ : বর্তমানে অনিমা রায়ের পোশাক কারখানায় ১২ শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের মাসিক বেতন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। কারখানা ও বাসা ভাড়া বাবদ খরচ যায় ৪০ হাজার টাকা। প্রতি মাসে কাপড় ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক জিনিস কেনাসহ খরচ হয় ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে ব্যাংক লোনের টাকা পরিশোধ

করা হয় ব্যবসার লাভ্যাংশ থেকে। অনিমা রায় জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় আমার তৈরি ডিজাইনের পোশাক বিক্রি হয়। আর

আমেরিকা, লন্ডন, সিঙ্গাপুরেও পোশাক বিক্রি করা হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাকে অর্ডার দিলে আমি অর্ডারি পোশাক তৈরি করি। অনিমা রায় জানান, বর্তমানে তার এ পোশাক শিল্পের ব্যবসা দেখা একার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই স্বামী রঞ্জন পা-ে চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় মন দিয়েছেন। স্ত্রীর কাজে সহায়তা করতে তাকে এখন দিনরাত খাটতে হচ্ছে।